

সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ১০১ সাংবাদিক বিবৃতি দিয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের সদস্য সচিব শেখ জামাল স্বাক্ষরিত সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতির বিষয়টি গণমাধ্যমকে শেখ জামাল নিশ্চিত করেছেন। সূত্র: এশিয়া পোস্ট
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা, দেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী সাংবাদিক সমাজ, গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে-প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন অবৈধ ইউনূস সরকার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।
তারা বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং জনগণের স্বাধীনভাবে মতামত গঠনের অধিকার। কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম প্রশাসনিক বা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি এবং তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে।
আমরা মনে করি, রাজনৈতিক মতবিরোধের সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে- আইন বা শক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। একটি দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না; বরং এতে বিভাজন, অসহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে বলেন তারা ।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিদাতারা বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করুন। দেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।
একইসঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থা এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণে গঠনমূলক ভূমিকা রাখে। গণতন্ত্রের পথ কখনো সংকীর্ণ হতে পারে না—এটি হতে হবে সকলের জন্য উন্মুক্ত, সহনশীল এবং ন্যায়ভিত্তিক, বলেন বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিদাতা ১০১ সাংবাদিক: মোল্লা জালাল, সৈয়দ বদরুল আহসান, ফরিদা ইয়াসমিন, সৈয়দ বোরহান কবীর, শাবান মাহমুদ, সোহেল হায়দার চৌধুরী, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মাসুদা ভাট্টি, ফাল্গুনী দত্ত, রমজান আলী, তৌফিক মারুফ, শামীমা আক্তার দোলা, মাহবুব হাসান, শহিদুল হক জীবন, বাণী ইয়াসমিন হাসি, এফ এম শাহীন, হায়দার হোসেন, হাকিকুল ইসলাম খোকন, ইমরান হাসান টুটুল, প্রদীপ কুমার চৌধুরী, শতদল তালুকদার, আজহার মাহমুদ, হাসনাত শাহীন, ইশ্রাফিল হাওলাদার, রুবেল হাসান, নাছির উদ্দিন চৌধুরী, ইমরানুল আজিম চৌধুরী, গাজী শাহ রিয়াজ, উৎপল দাস, আসাদুজ্জামান আসাদ, গাজী তুষার আহমেদ, সফিউর রহমান, ফারজানা শোভা, এসকে রেজা পারভেজ, নাজমুল হাসান রাজ, মিজানুর রহমান অপু, শফিকুল ইসলাম, মুক্তা মনোয়ার, সাজু লস্কর, হাসনাত কামাল, আজিজুল আম্বিয়া, তওহিদ ফিতরার ও মতিয়ার চৌধুরী।