নোয়াখালীর
সোনাইমুড়ী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের
উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সিএ) আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে অবৈধ মেলা আয়োজনের
অনুমতি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
উঠেছে। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে
তাকে জেলা হেডকোয়াটার সদর উপজেলায় বদলি করায় সচেতন মহল ও স্থানীয়দের
মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ
সূত্রে জানা গেছে, সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারে একটি মেলা আয়োজনের
অনুমতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা দাবি করেন
সিএ আবদুল মতিন। এর মধ্যে প্রথম দফায় এক লাখ টাকা পরিশোধ করেন আয়োজকরা এবং
বাকি ৫০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রশাসনিক
অনুমতি ও সহযোগিতার আশ্বাসে তারা এ অর্থ প্রদান করেন।
তবে
পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল
জান্নাতের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আয়োজিত মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া
হয়। এরপর আয়োজকরা প্রদান করা এক লাখ টাকা ফেরত চাইলে তা আর ফেরত পাননি বলে
অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ
ঘটনায় চট্টগ্রামের বাসিন্দা মেলা আয়োজক সোহেলের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের
একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক
আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরআগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক
প্রার্থীর স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া
হয়। অভিযোগে সিএ'র বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার
বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অভিযুক্ত সিএ’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে আবদুল মতিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ
বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তারের সঙ্গে
মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান- মেলার বিষয়টা তো অনেক আগের। সেটা তো আমরা
ভেঙে দিয়েছি তখনই। মেলা আয়োজকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে তিনি
বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয় তাকে
সদর উপজেলায় বদলি করেছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অভিযুক্তকে নোয়াখালী সদর উপজেলায়
উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সিএ) পদে বদলি করা হয়েছে। এতে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তাদের
প্রশ্ন, একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কেন গুরুত্বপূর্ণ জেলা সদরে দায়িত্ব
দেওয়া হলো? অনেকেই দাবি করছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ
প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তা না করে জেলা হেডকোয়ার্টারের সদর
উপজেলায় বদলি করা হয়। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। তাই তাকে শাস্তিমূলকভাবে
দুর্গম এলাকায় বদলি ও শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন অনেকেই।
বিষয়টি
নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত স্বচ্ছ
তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে।
নোয়াখালী
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্তের
বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।